কিভাবে ব্যাংক লোন পাওয়া যায় ? ব্যাংক লোন পাওয়ার সহজ উপায় ? Bank LoanSystem In Bangladesh

লোন বা ঋণ যার অর্থ সোজা বাংলায় কারো কাছ থেকে কিছু ধার নেওয়া । আজকাল মোবাইলে টাকা বা মিনিট বা ইন্টারনেট ধার নেওয়া যায়, আর ধার নিলে তার বিপরীত ক্রমে সামান্য কিছু বেশি অর্থ প্রদান করতে হয়। ঠিক তেমনি ভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থেকে ঋণ নেওয়া যায় আর এর বিপরীতে সামান্য বেশি কিছু টাকা প্রদান করতে হয় ।

সিআইবি রিপোর্ট
CIB এর অর্থ Credit Information Buro, যা অনেকটা আমাল নামার মত । জান্নাতে যেতে হলে আমাদের আমলনামা যেমন ভাল হতে হবে, ঠিক তেমনি ভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ/ক্রেডিট পেতে হলে CIB রিপোর্ট ভাল হতে হবে ‌। যদি জীবনে প্রথম কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ/ক্রেডিট নিতে চান, সেক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট নিয়ে ভাবার দরকার নেই আপনার জন্য ।

ব্যাংক লোন ও ক্রেডিট কার্ড লোন
ক্রেডিট কার্ড এখানে কার্ড শব্দটি শুনে হয়তো বা বুঝতে পেরেছেন কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে ঋণ নেবেন যখন যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে, কার্ড কাছে থাকলেও যখন ঋণের প্রয়োজন হবে না তখন অর্থ নিবেন না । তবে বেশি পরিমাণ টাকার দরকার হলে ব্যাংক লোন নেওয়া শ্রেয় ক্রেডিট কার্ডের লোন থেকে ।

ডিজিটাল মোবাইল লোন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিস্তারিত

ঋণের প্রকারভেদ
সেলারি ঋণ যা প্রদান করা হয় চাকরিজীবীদের মাসিক বেতনের বিপরীতে । তবে সেক্ষেত্রে চাকুরী স্হায়ী হতে হয় ।

এসএমই ঋণ বা ব‍্যবসা ঋণ ছোট বা বড় যে কোন ব্যবসায় বিপরীতে প্রদান করা হয় । তবে সেক্ষেত্রে ব‍্যবসা রানিং থাকতে হয় ।

হোম ঋণ বাড়ি বা অ্যাপারমেন্ট বা ফ্ল্যাট ক্রয় অথবা নির্মাণের জন্য এ ঋণ প্রদান করা হয় । বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার জন্য মিনিমাম ১ তলা পর্যন্ত নির্মিত থাকতে হয়। বাড়ি নির্মাণ ঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাড়ির নকশা অনুমোদিত হতে হবে ।

বিবাহ ঋণ যা বর্তমান সময়ে অনেক ব্যাংকে দিয়ে থাকছে, বিশেষ করে প্রাইম ব্যাংক বিবাহ ঋণ প্রদান করে ।

পার্সোনাল ঋণ ব্যবসায়ী বা চাকুরীজীবী বা শিক্ষক যে কোন শ্রেণীর মানুষদেরকে মাসিক আয়ের বিপরীতে ঋণ প্রদান করা হয় ।

এডুকেশন ঋণ/স্টুডেন্ট ঋণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এডুকেশন ঋণ বা শিক্ষা ঋণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রদান করা না হলেও অভিভাবকদের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হয় ।

অটো লোন
গাড়ি কেনার জন্য ঋণ প্রদান করা হয় ।

কৃষি ঋণ কৃষি সম্পর্কিত চাষাবাদ ও কৃষি সম্পর্কিত আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদান করা হয় ।

প্রবাসী ঋণ অনেক ব্যাংক রয়েছে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য প্রবাসীদেরকে ভিসা থাকলে এই ঋণ প্রদান করে । আবার অনেক ব্যাংক রয়েছে প্রবাসীদের বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদান করে । তবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজন এবং প্রবাসীদেরকে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করে ।

বাইক ঋণ বা কার ঋণ ব্যবসায়ী চাকরিজীবী বা শিক্ষকদের আয়ের বিপরীতে এ ঋণ দেওয়া হয় ।

ঋণের বিপরীতে ইন্টারেস্ট
আমরা প্রথমেই জেনেছি মোবাইল কোম্পানি থেকে টাকা ধার নিল তার বিপরীতে মূল টাকার সাথে সামান্য বেশি কিছু অর্থ প্রদান করতে হয় । ঠিক তেমনিভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলেও মূল টাকার সাথে ইন্টারেস্ট প্রদান করতে হবে । বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুসারে ঋণের ইন্টারেস্ট রেট সর্বোচ্চ ৯% । তবে কোন কোন ব্যাংক ৭% বা ৮% হারে সুদেও এখন ঋণ প্রদান করছে । তাই যেখানেই কম পাবেন সেখান থেকে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ ।

ঋণ পাওয়ার নিয়ম বা শর্তসমূহ
১) কেন ঋণ নেওয়া হচ্ছে তা ব্যাংকে জানাতে হবে ।
২) গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ‍্য ব্যাংকে প্রদান করতে হবে ।
৩) চাকরি বা ব্যবসা অভিজ্ঞতা থাকলে সে সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে ।
৪) পূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকলে ব্যাংকে সে তথ‍্য প্রদান করতে হবে ।
৫) অর্থনৈতিক স্টেটমেন্ট বা আয়ের প্রমাণপত্র প্রদান করতে হবে।
৬) ক্রেডিট কার্ড কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থেকে নিয়ে থাকলে সব সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করতে হবে ।

ঋণ পরিশোধের সময় বা মেয়াদকাল
ক্ষেত্রবিশেষে ঋণ পরিশোধের সময় ১ থেকে ২ বছরের যেমন হতে পারে, ঠিক তেমনি ভাবে ২ থেকে ৫ বছর, এমনকি ১৫ থেকে ২০ বছর হয়ে থাকে। এটি নির্ভর করে গ্রাহক কোন খাতে ঋণ নিচ্ছে। ঋণ পরিশোধ করতে হয় মাসিক কিস্তি পদ্ধতিতে। স্বল্পমেয়াদি ঋণ এর ক্ষেত্রে অধিক ইন্টারেস্ট রেট হয়ে থাকে। তবে ঋণ পরিশোধের সময় যত কমবে সেক্ষেত্রে ইন্টারেস্টের টাকার পরিমাণটা কম থাকবে, কিন্তু ঋণ পরিশোধের সময় যত বাড়বে সেক্ষেত্রে ইন্টারেস্টের টাকার পরিমাণ বাড়বে।

যেসব কারণে ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকে
ইলেকট্রনিক্স পণ্য বা ডিভাইস ক্রয়, মেডিকেল ট্রিটমেন্ট, এডুকেশন পারপাস, বিবাহ, ট্রাভেলিং, ফেস্টিভ্যাল, বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য ক্রয়, বৈধ ব‍্যয় নির্বাহ, ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য, বিদেশে যাওয়ার জন্য, গাড়ি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, ফ্ল্যাট ক্রয়
অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়, বাড়ির সংস্করণ, কৃষি চাষাবাদ, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় , ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয় ইত্যাদি ।

ঋণ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা পেপার
ঋণের ধরন ও ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনে পেপারস এর দরকার হতে পারে । তবে প্রাথমিক এই পেপারস গুলো অবশ্যই দরকার হবে তা নিন্মরুপ

১) গ্রাহকের সম্প্রতি সময়ে সদ্য তোলা ২ বা ৪ কপি ছবি ।
২) গ্রাহকের জাতীয় পরিচয় পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট এর ফটোকপি (পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য)
৩) গ্রাহকের অফিস আইডি কার্ড এর কপি (যদি থাকে)
৪) গ্রাহকের সেলারি সার্টিফিকেট বা প্লে স্লিপ ।
৫) ব্যাবসায়িক হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি ।
৬) আয়কর দেওয়ার বিপরীতে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন এর ফটোকপি (TIN Certificate এর ফটোকপি)
৭) গ্রাহকের লাস্ট ছয় মাস এক বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর ফটোকপি ।
৮) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে গেলে অবশ্যই গ্যারান্টার এর প্রয়োজন হয়, যাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে হয় । গ্যারান্টারের ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য তার জাতীয় পরিচয় পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট এর ফটোকপি ও গ্যারান্টারের ২ বা ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ।

সিআইবি সংক্রান্ত তথ‍্য
যদিও পূর্ববর্তীতে এটা নিয়ে কথা বলা হয়েছে । যিনি ঋণ নেবেন তার সিআইবি রিপোর্ট যেমন ভালো হতে হবে অর্থাৎ তিনি যদি পূর্ববর্তীতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন তাকে যেমন ঋণ খেলাপি হওয়া যাবে না । ঠিক তেমনি ভাবে যিনি গ্যারান্টর থাকবেন তার সিআইবি রিপোর্ট অবশ্যই ভালো হতে হবে, অর্থাৎ তিনি যদি পূর্ববর্তীতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন তাকে ঋণ খেলাপি হওয়া যাবে না ।

বিকাশ কিভাবে ঋণ দেয় জানুন বিস্তারিত

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার আগে যা খেয়াল রাখবেন
১) ঋণের বিপরীতে সুদের হার ।
২) ইনস্টলমেন্ট পদ্ধতি
৩) মেয়াদপূর্তির পূর্বে ঋণ পরিশোধ করতে চাইলেই সে ক্ষেত্রে সুদের টাকা প্রদান করতে হবে কি হবে না
৪) লেট পেমেন্ট কত শতাংশ হারে চার্জ দিতে হবে।
৫) ঋন প্রসেসিং ফি।
৬) ওভার টেকিং চার্জ।

ব্যাংক লোন এর অসুবিধা
ঋণ নিতে গেলে স্বাভাবিকভাবে ক্ষেত্রে বিশেষে উপরোক্ত সকল কাগজপত্র ব্যাংকে প্রদান করতে হবে, ব্যাংক তা যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই-বাছাই করে যদি সঠিক মনে হয় তবেই সর্বনিম্ন ৭ দিন থেকে ১ মাসের মাঝেই শুধুমাত্র গ্রাহক ঋণ পাবেন। চাকরিজীবীদের মাসিক আয় সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা ও ব্যবসায়ীদের মাসিক আয় সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা হতে হয়।

কিভাবে বুঝবেন ঋণ বা ক্রেডিট পাবেন ?
সিআইবি যার ৭ট স্টেপ রয়েছে । এই সাতটি স্টেপের স্ট্যাটাসের মধ্যে প্রথম তিনটি ধাপের স্ট্যাটাসের জন্য কোন ব্যাক্তি ঋণ বা ক্রেডিট পেয়ে থাকে, পরবর্তী চারটি স্টেপ এর জন্য কোন ব্যক্তি ঋণ পাবেন না ।

সুদবিহীন ঋণ কিভাবে পেতে পারি ?
এই প্রশ্ন সচারাচর অনেকেই করে থাকেন । বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ১৬টি ব্যাংক রয়েছে যারা ইসলামী শরিয়া মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন । সেই ক্ষেত্রেই ইসলামিক ব্যাঙ্গালোর ঋণ প্রদান করেনা দিনের পরিবর্তে তারা বিনিয়োগ করে । সুদী ব্যাংক থেকে গ্রাহক ঋণ নিলে ঋণ অনুমোদন হলে গ্রাহককে টাকা প্রদান করা হয় কিন্তু ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়ে নেয় বিনিয়োগ অনুমোদিত হলে গ্রাহককে টাকা প্রদান করা হয় না সরাসরি, টাকার পরিবর্তে গ্রাহককে তার প্রয়োজনীয় পণ্য দ্রব্য কিনে দেওয়া হয়।

তবে ইসলামিক ব্যাংক গুলো থেকে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট নির্মাণের বিপরীতে বিনিয়োগ নিলে ততদিন পর্যন্ত গ্রাহকদের ব্যাংকে ইনস্টলমেন্ট প্রদান করতে হয় না যতদিন পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট নির্মাণ সম্পন্ন না হয় ।

ঋণের বিপরীতে জামানত
ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার বিপরীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে ক্রয় কিংবা বিক্রয়যোগ্য বৈধ জামানত গ্রহণ করে থাকে । এ জামানত হতে পারে মূল্যবান গহনা বা জমি বা বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা দালানকোঠা ইত্যাদি ।

গ্রাহক যখন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় তখন ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট সময় পর গ্রাহকের সম্পত্তি নিলামে তুলে বিক্রি করে ।

কোন ব্যাংক ঋণ দেয়
ব্যাংক যেহেতু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তাই বাংলাদেশের সকল ব্যাংকের ঋণ দিয়ে থাকে, ঋণ দেওয়াই ব্যাংকের কাজ যাতে ব্যাংক প্রফিট করতে পারেন। উপরোক্ত বর্ণিত নিয়ম যদি কোনো গ্রাহকের সঙ্গে মিলে যায়, সেক্ষেত্রে গ্রাহক চাইলে তার পছন্দ অনুযায়ী ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়ে প্রয়োজনীয় পেপার জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদন ফরম পূরণ করে ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন ।

ইসলাম কখনোই ব্যাংক ঋণের সঙ্গে কোন ব্যক্তিকে সংযুক্ত হতে বলে না । যে ব্যক্তি এক টাকা সুদ দিল বা নিল সে ব্যাক্তি তার মায়ের সঙ্গে ৩৯ বার জেনা করলো। তাই কেউ কিছু ইসলামিক মাইন্ডের হয়ে থাকেন তাই সুদি ব্যাংক থেকে ঋণ না নেওয়ায় সবচেয়ে ভালো। তাই আমি অনুরোধ করব ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ এর পরিবর্তে বিনিয়োগ নেওয়ার।

1 thought on “কিভাবে ব্যাংক লোন পাওয়া যায় ? ব্যাংক লোন পাওয়ার সহজ উপায় ? Bank LoanSystem In Bangladesh”

Leave a Comment

error: Content is protected !!